‘আইজকাইলকার বেডিয়াইট তেরো বেডি চুদঅইন্না জামাইরও ভাত খায়। ইতান-হিতান বিজারলে দুইন্নাইত বাইচ্চা থাহন লাগদ না। ঠিক এইডাউ না….জামাইর লগে পিরিত বিয়াইত্তা বেডির আসল পিরিত। ইতান তালাক-ফালাক দিয়া জামাই কেউ ছাড়েত চায় না। দুই বেলা ভাত আর রাইতের কামডা থাকলেই অইল। জসিম্মার কাহিনীডাই কি! আরে শালা বেকুব, নতুন মাল খাওনের ইচ্ছা অইছে তো আগেরটা ছাইড়া দিলেই পারত, না…সোনাত তেল বেশি, দুই বেডি এক লগে চোদব।’
​বেইন্নাল্লা খনুর দোহানে চায়ের কাপ মুখ দিয়া কলিমুদ্দিন বাপ যেই কাহিনীডা শুরু করচে ঠিক তহনই, এরহমই একটা কাহিনী শুরু অইছে কালুর বাড়ির উত্তরের দিকের কোডাভ থাইক্কা। এই কোডাভাত তিনশ টেহা দিয়া ভাড়া থাহে আব্দুস সালাম, তার বউ আর দেড় বছরের পোলাডা লইয়া।
​মফুথ থাইক্কা আনইন্না সেন্টডা গায়ে মাখলো। মাহনে যে গন্ধডা বারুইছে হেইডা হাসিনার নাহে দিয়া ঢুইক্কা মাতাত যাওনে শইলডা কাঁপন দিয়া উঠলো।
​হাসিনা বেইন্নাল্লা থাইক্কাই তার নমুনাডি দেখতাছে। তয় কিছু কয় নাই। ঈদের দিন বাদে কোনদিনই এতে বেইন্নাল্লা গোছল করে না। এই গোছল করা, মুছ কিরিম মাহা, ইস্ত্রি করা পানজাবী, প্যান্ট দেইখ্যাও কিছু কয় নাই। একবার মনে করছিল জিগায় ‘কই যাও’। পরে মনে করল- থাক, যায় অয়তো কারো বিয়ার দাওয়াত, এরপর মনে অয় সিনেমা দেখব। মফু ভাইরে আগের দিন তিন-চাইরবার আইতে দেখছিল।
​সেন্টের গন্ধডা মাতাত ডোহনেই জিন্নাইয়া বইলো, ‘কই যাও’। সালাম একবার মনে করে উত্তরডা দিব না, পরে ঠিকই দিল, ‘মফু ভাইয়ের লগে যাই, একটা বিয়ার দাওয়াত আছে, আইতে রাইত অইব’ শেষের কৈফিয়তটা সালাইম্যা নিজেতে দিল।
​এর পরে কিছু জিগানের আচ্ছেলি হাসিনা ভাইব্বা পায় নাই। ভাইব্বা পায় নাই যে তারও একটা কারণ আচ্ছে, হেইডা অইল গিয়া পতিভক্তি। নাইত কত কিচ্ছু জিগানের আছিল-
​কিল্লাইগা রাইত অইব?
সিনেমা দেখত যাইবা নাহি?
বিয়ার দাওয়াত কি আর মাইঝরাইত পর্যন্ত নিহি?
​কার বিয়ার দাওয়াত?
আরো কতো! সন্দেহদ করা যাইতো। না, এইডাও না।
​যেই মফিজ উদ্দিন ওরফে মফু’র লগে যাইতাছে, সেই মফু অইল গিয়া আন্ত জুয়ারী। বাইত জমিজমা যা আছিল এডি বেেইচ্চা বিয়া করচে, তিন-চাইরডা রিকসা কিনছিল। এডি বেশি দিন থাহে নাই। জুয়ার ভিতরে তুইক্কা এডি বেইচে। এডি পেইচাও ক্ষ্যান্ত দেয় নাই। বউয়ের গয়নাডিও শেষ করচে। কয়দিন জেলে আছিল, কি লইয়া ঠিক জাজন যায় নাই। তয় কেউ কেউ কয় মাগির দালালি লইয়া কি প্যাচ লাগছিল, এইডার লাইন্যা কি মারামারি-ধরাধরি হইছিল, তারপর জেল। এখন মাইমসেরে পোনডাইয়া যা কামায় বউয়েরে দুই-এক পইসা দিলেও বাহিডা দিয়া জুয়াই খেলে। মাঝে মইদ্দে জুয়াতু থাইক্কা ভালাই কামাই করে, তার বেশির ভাগ দুফর, রাইত কাডে মাইমসের বাড়ি-বাড়ি। খানাদা পারলে হেনেই সাইরালায়। অহন নাহি চুরি-ডাহাতির ধান্দায় ঢুকতাছে। এইডাও অবশ্য লোকজনের সন্দেহ। হেই মফু’র লগে আদরের সোয়ামী বিয়াত যাইতেছে- না অইন্যা কিভা কররত যাইতাছে সন্দেহদ করত পারত। স্বামী যে মাঝে-মইদ্দে জুয়া খেলে এইডা জানে, তয় বাইত কোন গোল-মাল করে নাই। খরচা-পাতি সব ঠিকঠাকই আছে। এহানে অয়ত ভক্তিডা বাড়াইয়া দিহে। ভক্তি না রাইক্কা কিভা করব! একটু এদিক-হেদিক অইলে কই যাইব? যেই নেতাইননা শহিল, এইডা লইয়া মাইমসের বাইত কামও করাতনা। বাপের বাইতও জাগা নাই। হেনেই এক বইন রাঢ়ী আইয়া বইয়া রইছে। দুই বইন বিয়ার বাহি ভাই দুইডা অহনও হাঙ্গেন পরইননা। বাপ মা এইডারে পালতো পারতাছে না। হেই বাইত হাসিনা কেমনে যায়! তালাক একবার অইলে মাগী অইয়া যাওনের শুরু। তালাকের কোতা মাতাত ঢুকলে হাসিনা গালে তওবা তওবা দেয়। যেমনেই অউক এনে থাকত অইব। নাইত উপায় কি? ত আর পরেও একেবারে মুখ বন্ধ রাখলে কি চলেনি। সালাইমারে জুয়ার নেশাত ঠিকমত পাইলে ঘরের অস্তিত্ব থাকব নিহি। হাসিনা মাতাত এডি দুহে না দেইকাই একটু টোঁ-অ করে না। যা করে আল্লায়। আল্লাই যা করতাছে ভালা’লাইগ্ৰাই করতাছে। ছাইড়া দিছে। আল্লা হেদিক দিয়া স্বামীপারে পাড়াইতাছে আরেকটা বিয়া করত।
​পানজাবিডা গাউত দিয়া, রুমালডা পেকেডে পুড়াইয়া আল্লার নাম না লইয়া বারইয়া পরল চমুনীর দিকে। চমুনীত যাওনের পতেই সামনে পড়ল কুলসুমের মা। সাজগোজ দেইক্কা জিগাইয়া বইল, কি এক্কেবারে নতুন জামাই সাজ। ব্যাপারডা কি?
​‘এই একটা বিয়াত যাইতাছি’
​ইদানীন্তন উত্তরডা কাচুমাচু কইরাই দিয়া জোরে হাডা দিল চমুনীর দিকে, চমুনীত যাইয়া দেহে মনা ভাই আইয়ে নাই। শুক্কুর, কবির আতার হোটেল চা খাইতাছে। এই দুইজনও সালাইম্নার বিয়াত যাইব। মফু ভাই গেহে মনা ভাই রেডি অইহেনি দেইক্কা আইত। কুলসুমের মা’র সামনে পাইরা ভিতুরে একটা ডরের কাপণ শুরু অইছিল হেইডা অহন বাইরা গেহে মনভাইয়ের দেরি দেইক্কা। মনা ভাইয়ের উপর রাগ অইতাতিল, তয় রাগ অইলে কিবা অইব, তারে ছাড়া উপায়ও নাই। মনা ভাই‘ইদ বিয়ার খরচা পাতি চালাইতাছে। মনা ভাই খরচ দিতাছে তয় শর্ত অইল সালাইম্মা যে পঁচিশ হাজার টেহা পাইব হেইডার থাইক্কা দুই রিকসা কিননের টেহা বাদে বাহীডা মনা ভাইয়েরের দিত অইব। এনে মনা ভাই লাভ করতাছে, তয় বিপদে সহায় অইছে। মনা ভাই তার হম্মির বাইত দুই মাসের লাইন্যা একটা ঘর ঠিক কইরা দিছে যাতে বউডা লইয়া উঠত পারে। এইডার খরচা মনা ভাই দিতাছে। ঘরের বিছনা-পত্র, ডেক-ডেকচি এডি সালামরে নিজে কিনত অইব, তয় মাইয়ার বাহে দিলে আর কতাই থাহেনা।
​ডরের চোডে সালামের শইলে ছটফদানি শুরু অইলে টেবিলডা ছাইরা গেল হোটেলের বাইরে। বাইরেতু আবার ভিতরে তুইক্কা অইন্যা টেবিলে বইল। বইয়াই মাতাত হাত দিয়া চুল টানা শুরু করল।
​মফু আইয়া এই হালাত দেইক্কা জিগাইল ‘কিড়ে ডর লাগতাছে?’ ‘হ’, মুখটিট একটা বড়া দিয়া সালাম উত্তরটা দিল। হুন এহন ডরাইলে চলতনা, হম্মল ঠিক-ঠাক, তাড়া-ব্যাড়া অইলে আমারডা বাদ দিলাম মনা ভাইয়ের মান ইজ্জত থকতনা, ডরাইছুনা, পরে যা অওনের অইব। আমরা’দ আছি নাহি?’
​মফু ভাই, মনা ভাইয়ের উপর অবিশ্বাস করার কোন উপায় নাই। তারা কি আর ইচ্ছা কইরা জলে ফালাইয়া দিবনি। বাছানের লাইন্নাইদ বিয়া করনের বুদ্ধিংডা মফু ভাই দিছিল। ‘দুইডা রিকশা কিনতারলে একটা নিজে চালাবি। এইডার পইসা দিয়া হাসিনা আর পোলাডারে পালতারবি। আরেকটারে ভাড়া দিয়া রাখবি। এইডা দিয়া যা আইব নতুনডারে চালাইতারবি। হুন মাতাত খিলু থাকলে দইন্নাডাত চলন সহজ। অহন আমি যা কইতাছি কর, দেখবি সব ঠিকঠাক।’ এরপরে মফু অনেক বুদ্ধিংই দিছিল। হেইডি অইল গিয়া দুই বউরে একলগে সামলানের। ধরা থাইলেদ ভেরেংচক্কর। এতকিছু সালাইম্মার মাতাত খাদেনাই, হেতার চিন্তা আছিল নিজে দুইডা রিকশার মালিক অইব হেইদিকে। পরের রিকশা চালানিৎ জ্বালা! একদিন কামাই কম অইলে মিলানি মুশকিল অইয়া যায়।
​দুই
​মনা ভাইয়ের দেরির লাইন্যা মাইয়ার বাইত আইতে আইতে বাইজ্জা গেল সোয়া বারডা। মাইয়ার বাড়ি অইল গিয়া খানের বঞ্চিত। বাপের নাম মারফত আলী। মাইয়ার নাম মনোয়ারা বেগম। ডাক নাম মিনু। মিনুর বয়স সতর। মাইয়ার লউন্নার্ডির বিয়া অইয়া গেছে তের চৌদ্দই। মিনুর দেরি অওনের পিছে কারণ আছে। কারণডা মারফত আলী পুরোপুরি জানেনা। তয় সন্দেহ। সন্দেহ করনের কারণডা অইল গিয়া মাইয়া যেই বাইত কাম করত হেই বাইত একটা পোলা থাকত। নাম কামাল। মিনুর মালিক সাত্তার কন্ট্রাক্টর কামাইল্লারে রাখছিল কন্ট্রাক্টরির কামে। কামাইল্লার লগে মিনুর লাইন আছে এইডা মারফত আলী একটু অইলেও টের পাইছে। মাইয়া বাইত আইলে কামাইল্লার গপই বেশি করত। পোলাডা দুই একবার বাইতও আইছে। আইছে মিনু ছুডি পাইলে বাইত পৌঁছাইয়া দিত। পাঁচ বছর ধইরা মিনু সাত্তার সাবের বাইত আহে- ছাড়ুনের নামও লয়না। বিয়ার কতা ​জিগাইলে কইত ‘বাহ, অফা কুইচ্ছে কয়ডা দিন সবুর করলে বিয়ার ব্যবস্থা নাহি তারাই করতে পারে। বাচ্চা দুইডারে চাওনের লাইন্যা আমারে রাখতো চায়।’ আবার হেন দিয়া মালিকের বদনামও করত। খালিহালি নাহি কাম করায়। মিনুর বাপ বুঝত পারছে থাহনের করনডা কী। কামাইল্লার লগে মিনুর লাইনডা যে কত ভিতরের আছিলো এইডা মারফত আলী টের পাইছে মিনুর শইলের পাণ্ডামি দেইখখা। এক বছরে মাইয়ার শইল বছুত ফুইল্লা গেছে। মাঝে মইধ্যে সাত্তার সাব বউ-বাইল্লা লইয়া বেড়াইত যাইত। কামাল-মিনুরে বাইত রাইকাই যাইত, তখন কিনা অইছে আল্লাই জানে! আর মালিক থাকতেইবা কি। শইলের টান উঠলে ফাঁকে দিয়াই সাইরা-লাইতারে। মারফত আলী মনে করছিল মিনু কামাইল্লারে আটকাইব। কিন্তু আটকাইট পারে নাই। কামাইল্লা সাত্তার সাবের পঞ্চাশ হাজার টেহা লইয়া ভাগছে। ভাগছে যে আর খবরও লয়নাই। আসল পিরিত অইলে, বিয়া করলে হাদ থাকলে খোঁজ খবর নিত। মারফত আলী ছয় মাস দেখছিল কামাইল্লা আইয়েনি। না আইওনেই মাইয়ার বিয়া দেওনের লাইন্যা উইট্টা-পহিরা লাগচে।
​গেরামের বাইত ভিডা কইতে যেইডা আছিল হেইডা বেেইচ্চা পাইছে বিশ হাজার টেহা। অকিসের বসের থাইক্কা হাওলাত লইচ্ছে দশ হাজার আর সাত্তার সাব দিছে পাঁচ হাজার টেহা। আরো দেওনের ইচ্ছা নাহি আছিল, বিল বলে ঠিক মত পাইতাছেনা। এল্লাইগা খারাপ সময় যাইতাছে। সময়ডা ভালা অইলে মিনুরে একটা আলামারি কিন্না দিব। এমনে হেমনে চল্লিশ হাজার যোগার করছে। জামাইরে দেওন লাগবো পঁচিশ হাজার টেহা নগদ। বিয়ার খরচ আছে। তারপর মাইয়ার সংসারের লাইন্যা কিছু মালপত্র কিন্না দেওনদ উচিং।
​এসব গরিবের ঘরে বিয়া যেমন অয় মিনুরাড়াও হেমনেই অইছে। কাজী-টাজি দরকার অয়নাই। এলাকার কয়জন মুরব্বী সামনে আছিল। আল্লা-রসুলের সাক্ষী রাইখখাই সবকিছু অইছে। বিয়ার কাম সাইরা খাওন-দাউন, এলাকার মুরব্বীগো লগে মফু, মনা ভাই, কবিরা’র গপ-সপ, মাইয়ার বাপের লগে হিসাবপত্র ইতান-হিতান সারতে সারতে হাইন্‌জালা আইয়া হগলের মনে অইল এবার ওড়ন যায়।
​মাইয়ার বাপ মা বইন কাইনদা-টাইন্দা মাইয়ারে বিদায় দিল। বিদায় কালে জামাই পক্ষের হগলের মুখ হাসি থাকলেও জামাইর মুখটা অইল বোঁচকাইয়া। কারণ টেহাডা তার আত আইয়ে নাই, হেইডা আছে মফু আরত। মফু হেইডা মাইরা দিব, না রিক্সা কিন্না দিব, নাহি পরে সালাইম্মার আতই দিব এইডা ঠাওর করতো পারলনা। মনের ভিতরে ডর খসখখানি তুইডাই শুরু অইল।
​তিন
​টেহাডা যে সালাইম্মার আত ছাড়া আইয়া গেছে এইডা টের পাইছে চাইরদিন পরে। টের পাইলে কিবা অইব এই টেহা সালাইম্মার আত আইতনা এইডা শেষমেয বুঝছে মফুর উছিলা হুইন্ন্যা। তেরোশ টেহা সালাইম্মার আত ধরাইয়া কইল ‘বইন জামাই একটা বিপদে আছে, তারে আতার হাজার হাওলাদ দিছি। তয়—এক মাস পরই দিয়া দিব, তখন তর আতই দিমু। কয়ডা টেহা আমি
হইন্যা মিনুর শইল ঘিন ঘিন কইরা উঠল, ‘আপনের নিজের বউ আজেনো? মা, বইন আজেনো? পরের বউয়ের লগে এমন কতা কন!’
​‘আগোগো-মালো…… কত ভালা মানু! শুদ্ধ, পবিত্র। হুসেন, ভালা বেডি সাজনের দরবার নাই, বেডিয়াইট এক বেদার চোদানি খাইয়া শক্তি পায় না। এইডা আমি ভালা কইরা জানি। আপনে কোন্ ভদ্দর লকের ঘরের ঝি আমি এইডা ভালা কইরা জানি।’
​কডাডি মিনুর শইলে কাডার মত বিনছে। সালাইম্মা তাইলে ঠিকই মিনুর ব্যাপারডা হইন্যা লাইছে। নাইলে এরকম করে কা। তয় জানলে’দ এই কয় দিনে মাইরা-ধইরা ছাইরাও দিত পারত। হেইডাও করতাছে না। কিছুই ঠিকমত বুঝন যাইতাছেনা!
​কিছু বুঝন না গেলেও মিনু হাসিনার মত চোখ বন্ধ কইরা থাইইননা না। মিনু মনে মনে ঠিক করল সালাইম্মা কই যায়, কিটা করে খবরাখবর লইব। মিনুর খালত ভাই আব্বাক্স। আব্বাইচ্চা অইল গিয়া খলিফা বাড়ির শেঠ টিটুটার লগে খাতির ওয়ালা। হেতারে কইলে আগা মাথা হগল বাইর কইরা লাইব। অহন যা কাম হেইডা অইল গিয়া- আব্বাইচ্চারে খবর দেওন।
​পাঁচ
​সালাইম্মা কল্পনাও করে নাই এমন অইব। বেইন্নাল্লা চিল্লাইয়া-গাইল্লাইয়া আব্বাইচ্চা তারে ঘুমতৃত্বে তুলছে, লগে মিনুও আছে। দরজা খোলত দেরি নাই আব্বাইচ্চা, ‘হই শালা, মাদার চোদ কয় বেডি পোর্দাসের শালা? চোদানির পুত। তোর সোনা কতত বড় রে? দেহি! এক রাইত এনে, এক রাইত হেনে। আর কনে কনে যাসরে শালা ‘ক?’ কইয়াই আতি দিয়া থাপ্পার, পা দিয়া লাত্তি ওষ্ঠা দেওন শুরু করল। সালাইম্মা কিছু করবনি-কিছু কইবনি এই চিন্তা করনের ফাঁক পায় নাই। লাতি-ওষ্ঠা থাপ্পরের চোদে তে আধা-বেঁহুশ। বাচনের উপায় দৌড়িয়া বাইর অওন। বুইঝ্বাই মিনু সামনে আছিল তারে ঠেইল্লা বারইয়া দিল দৌড়। এই বারের মত পালাইতারলে অয়, তারপরে দেহন যাইব, কি উপায় অয়।
​উপায় পাওনের আগেই তারে নিরুপায় অইত অইল। সি এম বি অফিসের সামনে আল্লায় দিলে আব্বাইচ্চার লউন্ন্যাডি রেডি আছিল। তারে পাইয়া থাপ্পর, ঘুষা, লাত্তি কারে কয় দিছে। সালাইম্মার গাউডা খালি, থাপ্পরডি লোহায়ার আওয়াজের মত চিরিম চিরিম কইরা উঠছে।
​হাসিনা অনেকক্ষণ ধইরা হিসাব মিলাইত চাইতাছে, পারতাছে না, আব্বাইচ্চার কডাডি মাতাত ঘুরাতছিল। হেই সময় পিছনের মাইয়াডা কইতাছিল, ‘তারে ছাইর না, আমার জীবনডারে তে শেষ কইরা লাইছে। আমার লগে চিডারি, হ। তারে জিগাও তে অহন কিটা করব।’
​মাইয়ার কতাডি মাতাত ঘুরাতছে। মাগার হিসাব মিলাইত পারতাছে না। তয় মফু যে তারে একটা প্যাচ ফালাইছে এইডা বুঝত পারতাছে। মফু কয়েকদিন ধইরা ডাইক্কা ডাইক্কা কই কই জানি লইয়া গেছে। হেই রাইতটিত সালাইম্মা ঘর আইয়ে নাই। এক দিন জিজ্ঞানে কইছিল একটা বিস্কুট ফ্যাক্টরিত কাম করে। অহন দেহা যাইতাছে অইন কিচ্ছু।
​এতক্ষনে সি এম বি অফিসের সামনে বেডা-বেডিয়াইতে ভইরা গেছে। কালুর বাইততে, হাকিম ড্রাইভারের বাইততে যে যে পারচে আইছে। গেরি গেরি পোলাপাইনডিও রং দেহনের লাইয়া আইয়া পরচে। এই বেডা-বেডির ভিরের ভিতরে মফু দাড়াীয়া আছিল। হেতে চুপচাপ। সালাইম্মা মাইর খাইতে খাইতে মফুরে দেইক্কা চিল্লান দিয়াই ডাকছিল, ‘মফু’ভাইজ……বাঁচান, ও মফু ভাই’। হইন্ন আও কিছু কয়নাই। তয় সালাইমারে যে বাঁচাইত অইব-এইডা ঠিক। নাইত নিজের ক্ষতি না অইলেও কডাডি ফাঁস অইয়া গেলে বদনাম’দ বাড়ুব। এই চিন্তাডা অনেক্তন ধইরা করতাছে।
​সালাইম্মারে বাঁচনের সুযোগডা পাইল গিয়া চুনু হন্দার আওনে। রিকশা দিয়া যাইতাছিল। থামাইয়া জিগাইল ‘এই কিটা অইছেরে, এত চিল্লাচিল্লী কিল্লাইজ্ঞা রে।’ জিগাইতে দেরি নাই মফু তারাতারি যাইয়া চুনু হন্দারের কানে নিজেরডা বাদ দিয়া বাকী বিস্তান্ত কইল।
​-আইচ্ছা যাঃ আব্বাইচ্চারে ডাক দে, তার সাহসত কম না তে আমার এলাকার…মফু আব্বাইচ্চারে বাইক্কা হন্দারের সামনে আনল, হন্দার কিরমীরি খাইয়া কওন শুরু করল, কিতারে, আমার জাগাত অইয়া গণ্ডগোল করতাজ্ছ। কবে এত মাতবর অইলি রে…হঃ। -যযা মাতবরি কই করলাম, তে আমার বইনডারে… …আব্বাইচ্চার কতা শেষ করত না দিয়া হন্দার শুরু করল, আমারে আর হুনান লাগদ না, হগল জানি। অহন ভালা থাকতে থাকতে এনতে যা। এলাকাত চিল্লা চিল্লি লাগাইছস এইডা ভালা করছ নাই। কারো বিচর লাগলে হগলে আমার কাছে আইয়ে আর তুই বেডা আমার এলাকাত আইয়া আমি কেডা হেইডা গনসনা। অই হুন, মাদাইন্নালা আমার বাইত আয় তহন আমি যা করনের করমু। আর অহন এনে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করছ্ছ তো তর বারডা বাজামু। অই মফু সালাইমারেও কানদিত ধইরা লইয়া আইছ। সালের তেল আওজকা গেলন্ দিয়া মাইপ্লাম। পাড়াডার ভিতরে খালি একটা লাগাইয়া রাহন, সাল। অই হুন অহন জটলা ফটুলা সরা। চমুনিতে আইয়া যেন ইতান না দেহি?’
​হন্দার যতউ কউক, এই ঝগড়াডা এত জলদি শেষ অওনের না।
​মিনুর মাতাত আবার কিটা লারা উঠল আর লগে লগে চিল্লান দিয়া কইল, ‘হন্দারে কিটা করবরে হাঁ…হেই আব্বাস ভাই তারে ভালা কইরা জিগাও তে কিটা করব। হেই মাগিরে ছাড়ুতারবনি। না ছাড়তারলে অহুনই তার সোনাডা কাড। অই আব্বাস ভাই তারে দেও কয়ডা, কতা বাইর কর।’
​আব্বাস মাইর না দিয়া তারে জিগাইল, ‘কিতারে মাদারি, কিটা কস হুঁ। অহুন তোর কতাডা কইয়ালা। তোর মতলবডা আগে হুইন্নাই তারপরে হন্দার।’
​-মাদাইন্নালা কমু। হন্দারে এর পরে যা করনে করব।’ সালাইম্মা এই কতাডা কইতে দেরি নাই মিনু আইয়া তার চুলডিভ ধরল। ধইরা কইল,-‘কইতিনাকা, অই মাগির পুত, অহন কইতিনাকা, বিয়া করনের সময় হন্দারে জিগাইয়া করছিলিনি। অহন ক, নাইত তর আন্ডাডা ছেইচ্ছালামু।’ আন্ডাডা ছেইচ্ছালামু কইতে দেরি নাই মিনু নিজের ডাইন পাওডা দিয়া সালাইম্মার আন্ডাডা বরাবর দিল একটা লাত্তি। লাত্তি দেওনের লগে লগে সালাইম্মার লুঙ্গি’র প্যাচটা গেল হুইল্লা।
লুঙ্গিডা পইরা যাইতাছিল যহন, তহন লুঙ্গিডা এক আত দিয়া ধরলেও পাছা আর সোনাডা হগলে দেখল।
​হাসিনা এবার আর থারাইয়া থাহেনাই। দৌড়াইয়া আইয়া ধরল মিনুর চুলের গোছাত্ৰ। ‘চোদানির ঝি, নডির কি তুই কার গাওত আত্ দিসস্ রে। এদিক আয় আমার লগে কতা কইয়া যা।’ কইয়াই হেচকা টান দেওনে মিনু পিছনের দিহে আইলেও চুল কতডি ছুইট্টা হাসিনার আত আইয়া পরল। মিনু ছুইট্টা গিয়া সালাইমারে দিল আরেকটা লাত্তি, লাত্তিডা এবার পড়ল গিয়া সালাইম্মার আন্ডাডাত। হেতেে ‘মাজ্ঞো মা’ কইয়া চিল্লান দিয়া উঠল, ‘মফু ভাইও বাঁচাননাও, ও রহিম ভাই বাঁচাননাও’ কইয়া চিল্লান শুরু করণে কয়েকজন আইয়া, ‘অই ছাইরা দে, হন্দারে যা করনের করব’ ইতান-হিতান বুঝাইয়া মারামারিডা বন্ধ করাই ল। আব্বাইচ্চাও দেখল বেশিক্ষণ থাকলে হন্দার আইয়া দেইক্বালাইত পারে। দেখলে আবার আরেকটা ভেজাল।
​ছয়
​‘বাইল-বোল দিয়া আটকাইতি, তাইলে না অয় কিচ্ছু একটা করন যাইত। না……, কিতা মাইরপিট করতি গেলি। অহন গেলনি সব। আরেকটা বিয়া করন কি যেমন তেমন কতানি, আরেকটাও যে তাকব হেইডার কোন ঠিক আছেনি, আল্লায় জানে তর কপালে জামাইর ভাত জুটেনি!’ বেইন্নাল্বা রুটি বানানোর সময় মারফত আলীরে সামনে রাইক্কা মিনুর মা এইডী কইতাছে। খবর বেশি ভালা না দেইক্গাই এসব কতা। সালাম বউ পোলা লইয়া কাইল রাইতে কই ভাগছে কেউ কইতারে না। মাদান্নাইলা হন্দারের বাইত মেল বয়নাই। হন্দারের নাহি কি কাম আছিল। আইজকা মাদাইন্নাল্বা বওনের কতা, এহন আর এইডার কাম নাই। কার লাইগ্না মেল বইব!
​মিনু অহন বুঝত পারতাছে কাউলকা যা করছে বেশি ভালা করে নাই। তয় সামনে তার কিতা অইব, কিতা করব হেই কতা চিন্তা করতে করতে মিনু চোহে অন্ধকার দেহন শুরু করচে। হেদিক দিয়া খ্নুর দোহানে মিনুর অন্ধকার জীবনের কারণ আর শুরুর কতা কইতে কইতে কলিমুদ্দিন’র বাপ দুই কাপ চা শেষ কইরা একটা পান মুছ দিছে।
​পান চাবানি অর্ধেক অওনের পর কইল কালা’র মা’র বইন শানু’র ব্যাপারডা বুফ! জামাইর আট রইছে। বইন’দ আল্লায় দিলে শানুর পেডের বাইচ্চাডা পেডে থাকতে থাকতেই পালক দেওনের লাইঙ্গা উইট্টা পইরা লাগচে………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest Posts

  • য্যান্-ত্যান্ কাইনি

    ‘আইজকাইলকার বেডিয়াইট তেরো বেডি চুদঅইন্না জামাইরও ভাত খায়। ইতান-হিতান বিজারলে দুইন্নাইত বাইচ্চা থাহন লাগদ না। ঠিক এইডাউ না….জামাইর লগে পিরিত বিয়াইত্তা বেডির আসল পিরিত।…

  • পেঁচার চোখের অন্ধকার

    উৎসর্গ: আমার শ্রেষ্ঠ শ্রেয়সী ও বন্ধু- আমার আত্মজা সাথীকে আকাশের মেঘগুলো এলোমেলো হয়ে এলে যেমন পিঁপড়েগুলোর চাঞ্চল্য বাড়ে, তেমনি আমিও আরো এলোমেলো হয়ে পড়ি।…

  • প্রণবের মার্কশীট সংক্রান্ত জটিলতা

    এক​‘আপনি কোন চিন্তা করবেন না। কাজের পরে টাকা দিবেন। আপনাকে তো আগে টাকা দিতে বলছি না।’ কালো রঙের ছেলেটি এভাবেই কথা বলে এবং তার…